ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

kaziafraz
3 Min Read


ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত গণভোটের ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার বিকেলে শেষ হয়েছে। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের দাবি, সামগ্রিকভাবে ভোট ছিল শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। তবে বিচ্ছিন্ন সহিংসতা, বিস্ফোরণ ও কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতিকে আংশিকভাবে উদ্বেগজনক করে তোলে।

রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দিনটিকে “নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন” হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এটি দেশের মানুষের জন্য আনন্দের দিন এবং গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার নতুন সূচনা। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি শুভেচ্ছা জানান।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন রাজধানীর ইস্কাটন এলাকায় ভোট দিয়ে বলেন, এই ভোটের মধ্য দিয়ে দেশ গণতন্ত্রের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভোট দিয়ে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হলে তাঁর দল ফলাফল মেনে নেবে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য ভোটের প্রত্যাশা করে বলেন, দেশ এমন একটি সরকার চায়, যা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবে। তিনি জানান, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তাঁরা ফল মেনে নেবেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, যাঁরা ১১ দলীয় জোটে নির্বাচন করছেন, বলেন তাঁদের জোট সরকার গঠনের লক্ষ্যেই মাঠে রয়েছে এবং তাঁরা ইতিবাচক ফলের প্রত্যাশা করছেন।

ভোট চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কিশোরগঞ্জে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় একজনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম ও খুলনায় ভোটকেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে দুজন মারা যান। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে এক পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
এ ছাড়া কুমিল্লা ও গোপালগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন এবং কিছু সময়ের জন্য ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করে।

এবারের নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধানের কিছু মৌলিক পরিবর্তন নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে নিজেদের মতামত জানান। ‘হ্যাঁ’ ভোট সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কার কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ভোট গ্রহণ শেষে এখন চলছে গণনা ও ফল প্রস্তুতির কাজ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হলেও চূড়ান্ত ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে আছে দেশবাসী।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে উৎসবের আমেজের পাশাপাশি কিছু সহিংসতার ছায়াও ছিল। তবে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি শান্ত রাখা এবং ফলাফল গ্রহণযোগ্য রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে

Share This Article
মন্তব্য নেই

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।